আজ

  • শনিবার
  • ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মাছের পোনা অবমুক্তকরণ সদকায়ে জারিয়া

  • মুহাদ্দিস রফিক উল্যাহ আফসারী
  • এই আমার প্রিয় লাকসামের ডাকাতিয়া নদী। আজ সকালে নদীটিকে দেখে কল্পনায় ভাসলাম ছল ছল ঢেউ তুলে নদী চাঁদপুর হয়ে সাগর পানে চলে যাচ্ছে নেই মাছ ও মাছের দুষ্ট পোলাদের লাফালাফি, আকাশ পানে তাকিয়ে দেখি নেই পানকৌড়ি ও তার মেয়েদের প্রভাত ফেরী;

    আছে শুধু দুই পেয়ো আদম সন্তানদের মৎস নিধনের তথা কোটি কোটি মানুষের রিযিক ধবংসের ‘বেশাল জাল’ আকাশের দিকে হা করে কামানের মত তাকিয়ে! আজ হৃদয় ক্ষত বিক্ষত, মাছে ভাতে বাঙ্গালী কোথায় আজ আমাদের ঐতিহ্য!!

    ১.আসুন আমরা সকলে ব্যক্তিগত ভাবে এই বর্ষায় পোনা অবমুক্ত করি।

    ২.প্রত্যেকে নিকটস্হ জলাশয়ে ১কেজি করে পোনা অবমুক্ত করি।

    ৩.প্রত্যেক বেশাল জালের জেলেকে অন্তত ১কেজি পোনা অবমুক্ত করন বাধ্যতামূলক করা হোক। তাহলে সে প্র্যাকটিক্যাল বুঝবে পোনা নিধন মানবতা বিরোধী অপরাধ।

    ৪.সরকার প্রতিবছর পোনা অবমুক্ত করে সেই কর্মসূচীতে আমরা ও ব্যক্তিগত ভাবে এগিয়ে আসি।

    ৫.প্রবাসী ভাই বোনদের কাছে আকুল আবেদন আপনারা অন্তত ১কেজি পোনা অবমুক্ত করুন। প্রয়োজনে ১০০ টাকা অন্যদিকে সদকা কম করে নদীতে দেশের মানুষের রিযিক তথা মৎস সম্পদ উন্নয়নের জন্য ১ কেজি পোনা নদীতে সদকা করুন।

    ৬.স্হানীয় নেতৃবৃন্দ প্রত্যেকে অন্তত প্রতি বছর ১ কেজি পোনা স্হানীয় জলাশয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে অবমুক্ত করে ফেসবুক/মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচার করুন এতে মানুষ উৎসাহ পাবে।

    ৭.শহরের ভাই বোনেরা স্হানীয় জলাশয় ও ড্রেনে তেলাপিয়া, কৈ, শিং, মাগুর পোনা আপনার সন্তানদের সাথে নিয়ে অবমুক্ত করুন, এতে আপনার সন্তানরা ও দেশকে ভালবাসার শিক্ষা অর্জন করবে।

    ৮.যারা প্রতি বছর গ্রামে দান সদকা করেন তারা প্রত্যেকে প্রতিবছর কয়েক কেজি পোনা সওয়াবের নিয়তে অবমুক্ত করুন।
    ৯.সম্মানিত পীর মাশায়েখ ও ইসলামী স্কলারগন আপনারা অন্তত নিজের নিকটস্হ জলাশয়ে ১ কেজি পোনা অবমুক্ত করে ফেইসবুকে প্রচার করুন এতে আপনার মুরীদ ও ভক্তরা নিজ এলাকায় এই কর্মসূচি শুরু করবে।

    ১০.সম্মানিত পুলিশ ভাইয়েরা আপনাদের এলাকার প্রিয় বন্ধুদেরকে যদি বলেন তুমি অন্তত ১ কেজি পোনা অবমুক্ত করে ছবিটি আমাকে ইনবক্স করবে; এতে তারা উৎসাহ পাবে।

    ১১.আপনি কি কল্পনা করেছেন বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি যেন রিযিকের খনি। জলাশয় ও নদী গুলো তাজা গোশ্তের খনি।
    মহান আল্লাহ বলেন-
    لحما طريا
    “নদীতে তাজা গোস্ত ” এই ‘তাজা গোস্ত’ পোনা অবমুক্ত করে উৎপাদন করতে হবে।

    ১২.বাংলাদেশের মানুষের জন্য কত মেট্রিক টন বাৎসরিক মাছের চাহিদা ঠিক সেই অনুপাতে মহান আল্লাহ বাংলাদেশের জমিনকে জলাশয় ও নদী দিয়ে ডিজাইন করেছেন।

    মহান আল্লাহ জিওগ্রাফিক্যাল বিজ্ঞানী و جعل الأنهار
    واذا الأرض كيف سطحت
    “তিনি নদী খনন করেছেন।”
    “চাষের জমি বিছিয়ে দিয়েছেন।”
    চাষের জমিতে মৎস চাষ ফসল ধবংশের কৌশল মাত্র।
    “ধানের ক্ষেতে ধান মাছের ক্ষেতে মাছ।”
    এই শ্লোগানে আমাদের কে এগুতে হবে।

    আল্লাহর পরিকল্পনাকে বিপর্যস্ত করে কোন জাতি এগুতে পারে না।
    মহান আল্লাহ সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক সৃষ্টি করেছেন।
    و قدرها تقديرا
    “তিনি সব পরিমিত সৃষ্টি করেছেন।”
    ফসলের মাঠ রক্ষা করতে হলে নিকটবর্তী জলাশয় ও নদীতে পোনা অবমুক্তের বিকল্প নেই।

    ১৩.আজ একদল নবীন মুক্তিযোদ্ধার বড়ই প্রয়োজন যারা পোনা অবমুক্ত করে ফসলের মাঠকে স্বাধীন করবে। এখনই এই তরুণরা সচেতন না হলে মুক্তি যোদ্ধাদের স্বপ্ন ‘মাছে ভাতে বাঙালি’এই ঐতিহ্য বিপর্যস্ত হবে। ফসলের মহা সংকট যেন আমি সামনে দেখতে পাচ্ছি।

    ১৪.ফসলের মাঠ কে এক দিকে মাছের বেড়ি অন্য দিকে রাস্তা, শহরায়ন, নতুন আবাসন, নতুন প্রতিষ্ঠান, নতুন কল কারখানা গড়ে দিনের পর দিন দখল করে চলছে। কয়েক বছরের ভেতরেই ফসলের মাঠ তার স্বাধীনতা হারাবে। ফসলের মাঠ স্বাধীনতা হারালে একটি জাতি রিজিক ও কর্ম সংস্হানের অভাবে স্বাধীনতা হারাবে। এখনই সময় পোনা অবমুক্ত করে রিযিক বাড়িয়ে তথা মৎস সম্পদ উন্নয়ন করে ফসলের মাঠ স্বাধীন করা।

    ১৫.আপনি হয়ত হাসছেন আমার ১ কেজি পোনা অবমুক্ত করে বাংলাদেশের কি হবে?

    আপনারা প্রতি উপজেলায় একজন শুরু করুন,
    প্রতি ইউনিয়নে একজন শুরু করুন,
    প্রতি গ্রামে একজন শুরু করুন,
    প্রতি পরিবারে একজন শুরু করুন,

    মনে রাখবেন :
    “পৃথিবীর প্রতিটি ভাল কাজ একজন দিয়েই শুরু হয়েছে।
    সমালোচকরা সমালোচনা করে সর্বকালে পিছিয়ে রয়েছে”।

    প্রতি বছর আপনারা ১ কেজি বা আধা কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করে ছবি তোলে আমাকে ইনবক্স করুন আমি আপনার জন্য ও আপনার সম্তানের জন্য বিশেষ ভাবে বিশেষ মুহূর্তে দোয়া করব ইনশাআললাহ।

    বিশ্বাস করুন ;
    ক্ষুধার্ত ও শিক্ষিত বেকারদের চাহনি দেখলে আমি নিজেকে স্হির রাখতে পারি না। প্রতিবছর আপনার ১ কেজি বা আধা কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করণ বাংলাদেশের খাদ্য ঘাটতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে যে কি পরিমান অবদান রাখবে তা লিখে শেষ করা যাবে না!

    দেশপ্রেমিকরা ছোট কাজকে ছোট মনে করে না। ছোট আমলেই বিশাল নেয়ামত অর্জিত হয়। বলা তো যায় না- পদ্মাতে ধরা পড়া ২০ কেজি ওজনের ২৫ হাজার টাকার কাতল মাছটি আপনার অবমুক্ত করা পোনাই ছিল যা প্রধানমন্ত্রী বা কাবার ইমাম খেয়েছিল!

    কোন দেশে অকারেন্স বেড়ে গেলে সেখানে বেশি বেশি ভাল কাজ করা বড়ই প্রয়োজন। রাস্তার অন্ধকার মোড়েই সরকার ল্যাম্প পোস্ট দেয়।

    আজ দেশে নিরীহ মাছের পোনা নিধনুদ্দিন, বেসালুদ্দিন, ডালা শিকারুদ্দিন, ছাই পাতা উদ্দিন, রাধুনি উদ্দিন, মাছ কিনা উদ্দিন, মাছ বেচা উদ্দিন, যুরকা উদ্দিন, আন্তা উদ্দিন, টেঁটা/ছল উদ্দিন বেড়েই চলছেই নেই শুধু মাছের পোনা অবমুক্ত করা উদ্দিন!
    আসুন আমরা প্রত্যেকে নিকটস্হ জলাশয় ও নদীতে প্রতি বছর অল্প কিছু মাছের পোনা অবমুক্ত করি সদকায়ে জারিয়ার নিয়তে।

    ফেনী ট্রিবিউন/টিএম/এএএম


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090