আজ

  • মঙ্গলবার
  • ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মাছ ধরে বাড়ি ফেরা হলো না জামশেদের

  • সোনাগাজী প্রতিনিধি
  • জামশেদ আলম ৩০ বছরের টগবগে যুবক। পেশায় একজন মৎস্যজীবি। মাছ ধরার আয় দিয়ে পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিছুদিন আগে বড় ফেনী নদীতে জেগে ওঠা চরে চর্তুদিকে বাঁধ দিয়ে ঘেরাও করে মাছ ধরার জন্য পুকুরের মতো করে ফাঁদ তৈরী করেন। জোয়ারের পানি চলে যাওয়ার জন্য বাঁধের ওপর বড় একটি পাইপ বসান। সেই পানি যাওয়ার পাইপে দূর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলো।

    রবিবার দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া এলাকায় বড় ফেনী নদীতে জোয়ারের পানির চাপে পাইপে ডুবে জামশেদের মৃত্যু হয়। তিনি ওই এলাকার আমির হামজার ছেলে ও তিন সন্তানের জনক ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রবিবার সকালে বড় ফেনীর নদীতে জোয়ার আসার আগ মুহুর্তে নিজের বাঁধে মাছ ধরতে যায় জামশেদ। সেখানে মাছ ধরা অবস্থায় হঠাৎ করে জোয়ারের পানির চাপে জামশেদ পাইপের ভেতরে ডুকে আর বের হতে পারেননি। পরে আশপাশের লোকজন তাকে না দেখে ডাকতে থাকেন। সাড়া-শব্দ না পেয়ে জোয়ারের পানি চলে যাওয়ার পর তারা পাইপের ভেতরে জামশেদের জামা দেখতে পান।

    পরে তারা পাইপের ভেতর থেকে তাকে বের করার চেষ্টা করেন। ততক্ষণের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে জামশেদ মৃত্যুকোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে বিকেল চারটার দিকে উপজেলা সদর থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসেরকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পাইপ ভেঙে জামশেদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত জামশেদের বাবা আমির হামজা বলেন, সকালে বাড়িতে তিনিসহ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নাস্তা খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মাছ ধরতে যান জামশেদ। ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে বলেছিলেন মাছ ধরে বাঁধ মেরামত করে দুপুরে বাড়িতে এসে এক সঙ্গে ভাত খাবে। আমির হামজা বয়সের ভারে কাজ করতে পারেন না। ছেলে জামশেদ পরিবারের হাল ধরেছিলেন। তিনি ছেলের এমন মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

    জামশেদের মৃত্যুর খবরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। লাশ দেখতে হাসপাতালে শতশত মানুষ ভিড় জমান।

    সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পাইপে ডুবে দূর্ঘটনায় জামশেদ নামে এক মৎস্যজীবি নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অভিযোগ না থাকায় সন্ধ্যায় লাশটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাতে জানাযা শেষে জামশেদের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090