আজ

  • রবিবার
  • ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আল-আমিন এতিমখানা নিয়ে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

  • সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  • ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মেহেদীপুর গ্রামে অবস্থিত আল-আমিন এতিমখানা (নেদায়ে ইসলাম কমপ্লেক্স)। ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারী ফেনী জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডি.কে চৌধুরী এতিমখানাটি শুভ উদ্বোধন করেন।

    প্রতিষ্ঠানটিতে মরহুম আলহাজ্ব বদিউর রহমান খান একক ভাবে সেক্রেটারী নেদায়ে ইসলাম কমপ্লেক্স আল আমিন এতিমখানা বরাবরে বিভিন্ন দলিলে প্রায় ৭৫০ শতক জমি দান করেন।

    এ সম্পত্তি সমূহ বিএস খতিয়ান সম্পন্ন হয় প্রতিষ্ঠানের নামে। আল আমিন এতিমখানাটি সুদীর্ঘ ৩৭ বছর সুনামের সাথে পরিচালনা করে আসছেন প্রতিষ্ঠাতার পরিবার ও পরিচালনা কমিটি।

    কমপ্লেক্সের মধ্যে প্রায় ৪০০ শতক জমির উপর মেহেদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শায়েখ বি.আর.খান আল রিফায়ী ইসলামিক কিন্ডারগার্ডেন, মেহেদীপুর মসজিদুল ইহসান জামে মসজিদ, ফোরকানিয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা, আলা আমিন এতিমখানা (আবাসিক) এই ৫টি প্রতিষ্ঠানে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে আল আমিন এতিমখানার বর্তমান ১৩ জন নিবাসী ক্যাপিটেশন গ্রান্ট অনুদান পেয়ে থাকে। যা এক বছরে ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা কিন্তু বর্তমানে আবাসিকে প্রায় ২৮ জন এতিম নিবাসীর থাকা ও খাওয়া, একজন সুপার, একজন হাফেজ ও একজন আবাসিক বাবুর্চি সহ তিনজনের মাসিক বেতন ২৮ হাজার টাকা। একমাসের চাউল বাবদ ব্যয় হয় ১০ হাজার টাকা, কাঁচা ও মুদি-মনোহারী মাছ-মাংস বাবদ মাসে ১০ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ২ হাজার ৫শ টাকা, আবাসিকের শিক্ষার্থীদের জামা-কাপড়, শিক্ষাসামগ্রী বাবদ মাসে প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ হয়, সর্বমোট শিক্ষক বেতন, খাদ্যসামগ্রী, শিক্ষা ও চিকিৎসা বাবদ মাসে মোট খরচ হয় ৫৬ হাজার ৫শ টাকা। কিন্তু সরকারী ক্যাপিটেশন মাসে ২৬ হাজার টাকা, জমি ইজারাও বাৎসরিক বিভিন্ন চাঁদা হতে মাসিক আয় গড়ে ৬ হাজার টাকা, তাহলে প্রতিষ্ঠান মাসিক আয় সর্বসাকুল্যে ৩২ হাজার টাকা ও মাসিক ব্যয় ৫৬ হাজার ৫শ টাকা। এর বাইরে প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ভবন নির্মাণ, রিপেয়ার, ম্যানটেনেন্স বাবদ অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। অতিরিক্ত ব্যয়কৃত টাকা সমূহ সভাপতি, সেক্রেটারী ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা নিজ থেকে বহন করেন।

    কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছু দুষ্কৃতিকারী প্রতিষ্ঠান বিরোধী। তারা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ লুটপাট ও ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

    এর অংশ হিসেবে ২৬ জুন তারিখে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিষ্ঠানের অনুদানের টাকা লুটপাট হচ্ছে মর্মে মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন করে। পত্রিকায় আরও প্রকাশিত হয় প্রতিষ্ঠান দাতার নাম এম.এ খান। প্রকৃতপক্ষে দাতার নাম হবে আলহাজ্ব বদিউর  রহমান খান। ভুয়া দাতা হিসেবে এম.এ খান ছাপা হয় যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এম.এ খান নামে কোন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত নেই। সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়- অত্র প্রতিষ্ঠান এরিয়ায় প্রায় দুই শতাধিক নারিকেল গাছ আছে এবং এই গাছগুলো থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকার নারিকেল বিক্রি হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অত্র প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৬টি নারিকেল গাছ রয়েছে। নারিকেল গাছ সমূহ হতে এতিমখানার শিশুরা খাওয়া-ধাওয়া ব্যতিত কোন বিক্রয়ের প্রমাণ নাই। সংবাদে আরো প্রকাশ করা হয়- প্রতিষ্ঠান এরিয়া বিভিন্ন ফল-ফলাদি গাছ আছে কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠান এরিয়াতে ১৬টি নারিকেল গাছ ব্যতীত অন্য কোন ফলের গাছ নেই।

    সংবাদে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটির মনোপুত না হলে শিক্ষক নিয়োগ ও ছাটাই করা হয়। কিন্তু গঠনতন্ত্র ও নির্বাহী পরিষদের আদেশ ব্যতীত কোন শিক্ষক নিয়োগ ছাটাই করা যায় না। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়- সুলতান আহমদ নামে এক ব্যক্তি বলেছেন সভাপতি পরিবারের লোকেরা মাদ্রাসা কমিটির সকল সদস্য কিন্তু এই গ্রামে সুলতান আহমদ নামের কেউ নেই এবং সভাপতির বাড়ি পশ্চিম রামচন্দ্রপুর, সম্পাদক, দাতা সদস্য হিসেবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আছেন নুরুল ইসলাম একজন সদস্য, যার বাড়ি সমাসপুর এবং বর্তমান ইউপি মেম্বার সদস্য হিসেবে আছেন। বাকি পাঁচজন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    সুবিধা বঞ্চিত এতিম শিশুদের আশ্রয়স্থল আল-আমিন এতিমখানাকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন করায় এতিমখানার পরিচালনা পর্ষদ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090