আজ

  • মঙ্গলবার
  • ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সেতুর অভাবে রাজাপুর ঘোনার ২০ হাজার মানুষের ঝুঁকি নিয়ে নদীপার

  • বিশেষ প্রতিবেদক
  • দেশ যখন ডিজিটাল হচ্ছে ঠিক তখনো একটি সেতুর অভাবে পিছনে পড়ে আছে দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর পূর্ব ঘোনা গ্রামটি। এই গ্রামের তিনদিক থেকে ঘিরে রেখেছে ছোট ফেনী নদী। অনেকটা দ্বীপের মতো রাজাপুর পূর্ব ঘোনা। এই গ্রামের স্কুল,কলেজ ও মাদরাসায় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন দড়ি টানা নৌকা দিয়ে পার হয়ে ফেনী সদরের বিরলী অংশে আসে। নদী পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষকে দূর্ঘটনার স্বীকার হতে হয়।

    বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই নদী পার হওয়া অনেক ঝুকিপূর্ণ। গ্রামবাসীর জন্য উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়েতের সহজ পথ হচ্ছে এটি। এই নদীর স্রোত বেশি হওয়ায় মাঝি দড়ি টেনে নৌকা বাইতে রাজি হয় না। ফলে প্রায়শ ঝড়,বৃষ্টিতে এলাকাবাসীদের চরম কষ্ট পোহাতে হয়। এমনকি রাতে মাঝি না থাকায় নৌকা আরেক পাড়ে থাকে বলে পারাপারে ভোগান্তী পোহাতে হয় গ্রামবাসীদের। ফলে রাজাপুর বাজার হয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে প্রায় ৪ কিলো মিটার ঘুরে বাড়ি যেতে হয়। এটি গ্রামবাসীর জন্য চরম কষ্টকর ও ভোগান্তির। এই গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন পাশের ফেনী সদরের পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বিরলী হাই স্কুল ও প্রাইমারী স্কুলে যাতায়েত করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এছাড়া প্রতিদিন কয়েক হাজার গ্রামবাসী স্কুল,কলেজ,হাসপাতালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সারতে জেলা ও উপজেলা শহরে এই নদী পার হয়ে যাতায়াত করে। প্রায়শ নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে বলে এলাকাবাসী জানান।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্ধা বলেন ওসমান বলেন, আমরা সব সময় আতংকে থাকি, প্রায় সময় এখানে নৌকা ডুবে যায় পরে মানুষ সাঁতার কেটে নদী পার, স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের এটা খুবই বিপদ জনক, স্কুল পড়ুয়া অনেক ছাত্র ছাত্রীরা সাঁতার জানে না।

    আজিম নামে আরেক বাসিন্ধ জানান, রাজাপুর উত্তর ও পূর্ব ঘোনার জন্য বিরলী স্কুল ও বিরলী বাজার কাছে হওয়া,পথচারী ও ছাত্র ছাত্রীরা এ নৌকা ঘাটাটি ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া নৌকা ঘাটা ছাড়া বিকল্প পথে চলাচলের কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, পূর্বঘোনা থেকে বিরলী স্কুল ও বাজার দেড় কিলোমিটার আর রাজাপুর বাজার হয়ে বিরলী ৪ কিলোমিটার। রাজাপুর ঘোনা থেকে রাজাপুর বাজার হয়ে বিরলী গাড়ী ভাড়া জন প্রতি ৪০ টাকা। অথচ নৌকা ঘাটা দিয়ে কম সময়ে জন প্রতি ৫ টাকা দিয়ে বিরলী যাওয়া যায়। যার কারনে পথচারী ও স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা এ নৌকা ঘাটা টি ব্যবহার করে থাকে।

    এ বিষয়ে বিরলী স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কাজী আবিদুর রহমান জানান, ব্রীজের অভাবে এই গ্রামের মানুষদের সারাবছর দুর্ভোগ পোহাতে হয়, বিশেষ করে স্কুলের কোমলমতি ছাত্রছাত্রী এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নৌকা পার হওয়া বেশ ঝুকিপূর্ণ । বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বেশি থাকায় প্রায়ই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। অতিদ্রুত এখানে ব্রীজ না হলে যেকোনো সময় প্রাণহানি ঘটতে পারে।

    বিরলী স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম জানান, এই নৌকা ঘাটটির কোন সরকারী নিলাম না থাকায় তিনি একটি নৌকা কিনে দেন ও মাঝি ঠিক করে দেন।

    তিনি আরো বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই একটি ব্রীজের অভাবে হাজারো জনগোষ্ঠী পিছিয়ে যাচ্ছে! বিষয়টি দুঃখ জনক। তাই গ্রামবাসী তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ছোট ফেনী নদীর উপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করতে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য জেনারেল মাসুদ উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090