আজ

  • শনিবার
  • ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নন্দীরগাঁয়ে মুরগীর খামারের আড়ালে জমজমাট মাদক ব্যবসা

  • দাগনভূঞা প্রতিনিধি
  • ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের নন্দীরগাঁও গ্রামের গোপীগঞ্জ এলাকায় মুরগীর খামারের আড়ালে কামরুলের জমজমাট মাদক ব্যবসা চলছে। গ্রামে বেড়ে গেছে মাদকসেবীদের আনাগোনা ও নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। মাদকের ভয়াবহতায় বিপথগামী হচ্ছে এলাকার যুব সমাজ। এনিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করলেও কোন ফল হয়নি।

    জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নন্দীরগাঁও গ্রামের গোপীগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় ১২/১৫ বছর আগে একটি বয়লার মুরগীর খামার স্থাপন করে এলাকার পাটোয়ারী বাড়ির মোজাম্মেল হক মজু মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম (৩৫)। এই খামারের আড়ালে রাত-বিরাতে সিএনজি অটোরিক্্রা, মোটর সাইকেল সহ নানা মাধ্যমে লোকজনের আনাগোনা চলতে থাকে। এরা মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন করে আসছে। এ কাজে স্থানীয় টুকা মিয়ার ছেলে ইলিয়াস (৫০), জালাল আহাম্মদের ছেলে পেয়ার আহাম্মদ (২৭), এয়ার আহাম্মদের ছেলে তারেক (২০), মো. সুমন অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।

    রাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ভূঞার সময়কালে তিনবার মাদক সহ কামরুল ইসলাম গ্রেফতার হয়েছে। পরবর্তীতে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হয়। গভীর রাতে মাদক ব্যবসার বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান কাশেদুল হক বাবর গোপিগঞ্জে স্থানীয় নুরুল ইসলাম কোম্পানীর জানাজা পূর্ব বক্তব্যে মাদক ব্যবসায়ীদের হুশিয়ার করেন। কিন্তু কামরুল ও তার সহযোগীরা তাতে কর্নপাত না করে মাদক বিক্রি ছড়িয়ে দিয়েছে ভয়াবহ ভাবে। অন্যদিকে কামরুল সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ইলিয়াসকে এলাকাবাসী ইতিপূর্বে গাঁজাসহ আটক করে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পুলিশে সোপর্দ করে। ভ্রাম্যমান আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করে। কারাগার থেকে বের হয়ে এসে আবার মাদক সিন্ডিকেটে সক্রিয় হয়। এছাড়া কুমিল্লার নাঙ্গলকোর্টে ৫ কেজি গাজাসহ আবার পুলিশের হাতে আটক হয় কামরুল।

    স্থানীয় সমাজসেবক জাফর ইমাম বীর বিক্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন সবুজ মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললে কামরুল নিজেই মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন সবুজের উপর হামলা করে রক্তাক্ত করেন। এনিয়ে যে কথা বলে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামরুল সিন্ডিকেট। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেও কামরুল গংরা প্রশাসনকে বৃদ্ধঙ্গলী দেখিয়ে দেদারসে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা গোপীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপের মাথা খুলে নিয়ে মুরগীর খামারে লাগায়। এনিয়ে স্কুলের শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলে পুরাতন ভবনের অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে চায়ের কাপ-প্লেটে প্রশ্রাব করে রেখে যায়।

    এদিকে স্থানীয় ভাবে কোন প্রতিকার না পেয়ে ছাত্র ও যুব সমাজকে মাদক ভয়াল গ্রাস থেকে বাচাঁতে এলাকাবাসী সম্প্রতি ফেনী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছে। আবেদনের প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গৃহিত হয়নি।

    মাদকের অভিযোগ বিষয়ে জানতে কামরুল ইসলামের মুঠোফোনে বার বার কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    রাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ভূঞা বলেন, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে কামরুলকে মাদকসহ কয়েকবার পুলিশে দিয়েছেন। বের হয়ে এসে আবার শুরু করেছে জমজমাট মাদক ব্যবসা।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ ন ম কাশেদুল হক বাবর বলেন, গোপীগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানটি সন্ধ্যার পরপরই মাদকের অভয়ারণ্য হয়ে যায়। কামরুল মাদকাসক্ত হওয়ায় ভয়ে স্থানীয়রা কেউ এগিয়ে আসে না।

    জানতে চাইলে ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান মাদক বিষয়ে ওই এলাকাবাসীর নিকট থেকে লিখিত আবেদন পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090