আজ

  • শনিবার
  • ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

এবার হাট কাঁপাবে ‘ফেনীর রাজা’

  • নিজস্ব প্রতিনিধি
  • ফেনীর কোরবানির পশুর হাটে এবার বড় তারকা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে ‘ফেনীর রাজা’। এই রাজা কোরবানির পশুর হাট কাঁপাবে ও সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হবে বলে ধারণা স্থানীয় খামারীদের।

    ‘ফেনীর রাজা’ গরুটির দৈর্ঘ্য ৯ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট, ওজন সাড়ে ১৮ মণ (৮শ কেজি প্রায়)। গরুর মালিক মামুনুল হক খোকন আদর করে কালো আর সাদা-কালো রঙের সুঠাম স্বাস্থ্যের গরুটির নাম দিয়েছেন ‘ফেনীর রাজা’।

    ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের গজারিয়া বাজার সংলগ্ন সৈয়দ বাড়ির খামারি মামুনুল হক খোকনের খামারে এই গরুটির দেখা মিলে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশি ও বাহামা জাতের গরুগুলো নিজের খামারে মোটাতাজা করেছেন তিনি। এছাড়া তার আরো চারটি গরু রয়েছে।

    খামারি মামুনুল হক খোকন জানান,‘ফেনীর রাজা’ খুব শান্ত স্বভাবের গরু। ওর কোনো রাগ নেই। কারও দিকে তেড়েও আসে না। আমি দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী ছিলাম। দেশে ফিরে শখের বসে ‘হক ডেইরি ফার্ম’ নামে খামার গড়ে তুলেছি। পাঁচ বছর ধরে আমি গরুর খামার করছি। তিন বছর আগে বাহামা জাতের বলদটি লালন-পালন শুরু করি। একই সময় দেশীয় জাতের কয়েকটি গরু কিনে লালন-পালন শুরু করি। ‘ফেনীর রাজা’র দাম হাঁকছেন ৮ লাখ টাকা। ক্রেতারা গরুটি দেখতে চাইলে ০১৮৫৯ ২৬০২১৮ এই মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারবেন।

    মামুনুল হক খোকন আরো জানান, প্রতিদিন দুই বেলা প্রায় ১০ কেজি করে খাবার খায় গরুটি। এরমধ্যে রয়েছে গমের ভুসি, ধানের গুঁড়া, ভুট্টা, শুকনো খড় ও কাঁচা ঘাস। এছাড়া মাঝেমধ্যে ভাতও খায়। কোনো ধরনের মেডিসিন ব্যবহার করা হয়নি। তবে প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শ নিয়েছি। এবারে কোরবানির বাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচটি পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এদিকে ‘ফেনীর রাজা’কে দেখতে প্রতিদিনই লোকজন খামারে ভিড় করছেন। গরু দেখতে আসা সিলোনীয়া হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, বড় আকৃতির গরুর কথা শুনে দেখার আগ্রহ হয়েছিল। তাই দেখতে আসছি। আমি অনেক খামারির কাছে খবর নিয়েছি, উপজেলায় এত বড় গরু আর নেই।

    গরু দেখতে আসা জহির উদ্দিন পলাশ ও মাসেক এলাহি বলেন, ‘ফেনীর রাজা’ নাম শুনে অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে গরুটি দেখতে এসেছি। এখানে এসে উৎসুক আরো অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হলো।

    খামারির জানান, বছরজুড়ে বিনিয়োগ করে আমরা কোরবানি পশু প্রস্তুত করি। ঈদের আগ মুহূর্তে ভারতীয় গরু এসে বাজার ভরে যায়। এতে করে গরুর ন্যায্য দাম না পেয়ে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাশার মধ্যে পড়েন। এবার যাতে ফেনীতে ভারতীয় গরু অথবা অন্য জেলা থেকে গরু আনতে না দেয়া হয়। সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে অনুরোধ জানান খামারির। 

    উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবুও খামারিরা গরু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090