আজ

  • মঙ্গলবার
  • ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সড়ক ভেঙে পুকুরে, ভোগান্তিতে তিনগ্রামের মানুষ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • তিন কিলোমিটার সড়কের চারটি স্থানে ভাঙন। দুটি স্থানে সড়ক ভেঙে পুকুরে চলে গেছে। ভাঙনের দৃশ্য দেখলে শুধু পুকুর ছাড়া সেখানে কোন সড়ক রয়েছে বলে মনে হবে না। তার ওপর আবার ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে ভরে গেছে সড়ক। ফলে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অতিবৃষ্টি ও অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন এবং দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের গোয়ালিয়া-সুলতানপুর-হাজিপুর ও নাজিরপুর সড়কের এমন চিত্র দেখা গেছে। সড়কের অবস্থা দিনদিন নাজুক হয়ে পড়েছে। ইটের সড়কটির এমন করুণ অবস্থায় গোয়ালিয়া এলাকায় ভাঙনের কারণে মসৃণতা খুঁজে পাওয়া কঠিন।

    স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের গোয়ালিয়া-সুলতানপুর-হাজিপুর ও নাজিরপুর সড়ক দিয়ে গোয়ালিয়া, সুলতানপুর ও নাজিরপুর এ তিনটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচল করে। যান চলাচলে ব্যঘাত ঘটায় গ্রামগুলোর স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা কেউ পায়ে হেঁটে কেউ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। কেউ কেউ আবার পার্শ্ববর্তী বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে থাকে। তবে সড়কের ভাঙ্গা অংশ পার হতে পথচারীদের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোয়ালিয়া-সুলতানপুর-হাজিপুর ও নাজিরপুর সড়কের গোয়ালিয়া এলাকায় প্রায় ৫০০ ফুট সড়ক (দুইপাশ) ভেঙে পুকুরে চলে গেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বৃষ্টির কারনে পুরো সড়কটিতে খানাখন্দে ভরে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ব্যহত ও জনসাধারনকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিন কিলোমিটার এ সড়কটির গোয়ালিয়া অংশে আধাকিলোমিটারও মসৃণ নেই।

    গোয়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, সড়কটিতে গর্ত থাকায় এবং তাঁদের বাড়ির পাশে সড়কের দুই পাশ ভেঙ্গে পুকুরে চলে যাওয়ায় করোনার আগে ভয়ে তিনি দুই ছেলে-মেয়েকে নিজে সঙ্গে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতেন। ছুটি শেষে আবার বাড়িতে নিয়ে আসতেন। তিনি বলেন, জরুরী প্রয়োজন ও কোন লোক অসুস্থ্য না হলে তারা বাড়ি থেকে বের হননা।

    ভোরবাজার এড. বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আবদুর রহিম জানায়, তাদের চলাচলের সড়কটি ভেঙে পুকুরে পড়ে যাওয়ায় তারা এখন পাশ্ববর্তী আমির উদ্দিন মুন্সির হাট সড়ক হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। এতে তাদের সময় ও দূরত্ব বেড়ে গেছে।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাহাব উদ্দন জানান, জনগনের দূর্দশার কথা বিবেচনা করে ২০১২ সালে গ্রামীণ এ সড়কটিতে ইটের সলিং করা হয়েছিল। দীর্ঘ আটবছর ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে সড়কের মাটি নরম হয়ে গোয়ালিয়া এলাকায় প্রায় ৫০০ ফুট সড়ক ভেঙে পুকুরে পড়ে গেছে। এতে করে যানবাহন বন্ধ ও স্থানীয়দের চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করার জন্য গতকাল রবিবার তিনি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

    জানতে চাইলে উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, সুলতানপুর-হাজীপুর সড়কটির কিছু অংশ ভেঙে পুকুরে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। গত কয়েকদিন পূর্বে ইউপি সদস্যের মাধ্যমে জেনেছেন।

    তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে সংস্কার করার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান সড়কটি ভাঙনের ভাঙনের স্থান দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090