আজ

  • শনিবার
  • ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সোনাগাজীতে ধর্ষনের পর জোরপূর্বক গর্ভপাতের শিকার সেই গৃহবধূর আদালতে জবানবন্ধি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সোনাগাজীতে জেঠা শ্বশুরের ধর্ষনের পর জোরপূর্বক গর্ভপাতের শিকার সেই গৃহবধু রবিবার বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জবানবন্ধি দিয়েছেন।

    ভিকটিমের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, ফৌজধারী কার্যবিধি ২২ ধারায় সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তানিয়া ইসলামের আদালতে নির্যাতিত গৃহবধু তাকে জোরপূর্বক ধর্ষন ও গর্ভপাতের বিষয়ে আদ্যপান্ত বর্ননা করেন।

    জবানবন্ধিতে গৃহবধু উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত সফি উল্যা তার জেঠা শ্বশুর। সেই সুবাদে তার ঘরে যাতায়াত ছিলো। বিয়ের পর থেকে তার জেঠা শ্বশুর তাকে উক্ত্যক্ত করতেন। এ বিষয়ে পারিবারীকভাবে কয়েকবার শালিশ দরবার হয়। তার স্বামী দুই বছর আগে ওমান চলে যান। তারপর থেকে জেঠা শ্বশুর নতুন করে তাকে যৌন হয়রানী শুরু করে। গত বছরের ১৮ জুন তার শাশুড়ি লাকি আক্তার নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। ওই দিন রাতে তিনি তার ৮ বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। এই সুযোগে রাতে তার শয়নকক্ষে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন সফি উল্লাহ। ভিকটিম তার শাশুড়ি ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ,স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানালে শালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    অভিযুক্ত সফি উল্যাহ প্রভাবশালী হওয়ার কারনে সে ঘটনাটি দুই লাখ দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তার মাসিক অনিয়মিত থাকায় ধর্ষনের পর কি হয়েছে বুঝতে পারেননি। ধর্ষনের কয়েকমাস পর সে ডাক্তারী পরীক্ষা করালে গর্ভবতী বলে জানতে পারে। পরে গত বছরের ২২ নভেম্বর জ্যাঠা শ্বশুর শফি উল্যাহ আসামী করে সোনাগাজী মডেল থানায় ধর্ষনের মামলা করেন। মামলা দায়ের পর তার জেঠাতো দেবর রিয়াদ ও তার বন্ধু মোরশেদ আলম স্বপন তাকে টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করাসহ বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে নিয়ে যায়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার পর রিয়াদ,স্বপন ও একজন আইনজীবী তার কাছ থেকে একটি কাগজে সাক্ষর নেন। পড়ালেখা না জানায় কাগজে কি লিখা ছিলো তিনি জানতে পারেননি। তাকে আদালতে তোলা হলে তিনি দেখতে পান তার জেঠা শ্বশুর কাঠগড়ায় অবস্থান করছেন। বিচারক তাকে কিছু জিজ্ঞাসা না করেই তার জেঠা শ্বশুরকে জামিন দেন এবং তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। দেবর রিয়াদ আইনজীবী নিয়োগ করে জামিন করালে ১৫ দিন পর সে কারাগার থেকে মুক্তি পায়।

    গত বছরের ৯ ডিসেম্বর কারাগার থেকে বের হলে ধর্ষক জেঠা শ্বশুরের ছেলে রিয়াদ হোসেন ও তার বন্ধু মোরশেদ আলম স্বপন তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে করে নিয়ে ফেনীর হাজারী রোড়ের একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখেন। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই-তিনদিন পরপর তারা দু’জনসহ আরও একজন মিলে ফেনীর রয়েল হাসপাতালে নিয়ে নিয়ে যায়। সেখানে হাসপাতালের নার্স তাকে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে ও ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করেন। পরে তার মৃত সন্তান প্রসব হয়। তখন সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। রিয়াদ ও স্বপন তার মৃত সন্তান কে নিয়ে গিয়ে পুনরায় তাকে ফেনীর একটি ভাড়া বাসায় আটক রাখেন। সেখানে রিয়াদ ও স্বপন তাকে বাজার করে দিতেন। তিনি বাসা থেকে বের হতে পারতেন না। প্রায় দুইমাস পর তিনি কৌশলে ওই বাসা থেকে বের হয়ে মুঠোফোনে ছোট ভাইকে বিষয়টি বলেন। গত ১৪ মার্চ তাকে পুলিশ ওই বাসা থেকে উদ্ধার করেন।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৪ মার্চ ভিকটিমকে ফেনী পৌরসভার পূর্ব দেবীপুর এলাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করার পর রবিবার তার জবানবন্ধি গ্রহনের জন্য আদালতে নেওয়া হয়। পরে ভিকটিম তার জবানবন্ধি প্রদান করেন।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এপি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090