আজ

  • বৃহস্পতিবার
  • ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এয়াকুব নবীর বক্তব্যে ক্ষুব্দ বিএনপি, কেন্দ্রের নোটিশ

  • নিজস্ব প্রতিনিধি
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে বক্তব্য রেখে বেকায়দায় পড়েছেন ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক এয়াকুব নবী। দলীয় শৃংখলা ভংগের অভিযোগ এনে লিখিত জবাব চেয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। জেলা বিএনপিও এয়াকুব নবীর বক্তব্য অসত্য বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

    ফেসবুক লাইভে এয়াকুব নবী অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে তার গ্রেফতারের নেপথ্যে নিজ দলের সহযোগি সংগঠন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম দুলাল জড়িত ছিলেন ।এছাড়া বিএনপির চট্রগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এমনকি সদর ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতা জড়িত থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। বুধবার ৬ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।

    ওই বক্তব্যে এয়াকুব নবী ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর গ্রেফতারের বর্ণনা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, “সেদিন ফেনী বড় বাজারের তরকারি বাজারের উপরে মাগরিব নামাজ শেষে একটি রেস্টুরেন্টে বসলাম। সেখানে এক ব্যবসায়ী আমায় চলে যেতে পরামর্শ দেন। যথারীতি সেখান থেকে তাকিয়া রোডের নাদিয়া হোটেলে চলে যাই। জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল সহ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে কথোপকথন হয়। এশার নামাজ আদায় করার জন্য পাগলা মিয়ার তাকিয়া মসজিদে চলে গেলাম। তখন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম দুলালকে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখলাম। প্রতিদিনের মতো ইসলামপুর রোডে স্বেচ্ছাসেবক দল সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম শিমুলের দোকানে বসি। আমি উপস্থিত হওয়ার আগে দুলালও সেখানে ছিল। আমাকে দেখার পর সে সরে গিয়ে ফোনে নির্দেশনা দেয়। কিছুক্ষন পর পুলিশ এসে আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।’

    বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের যোগসাজশ রয়েছে উল্লেখ করে এয়াকুব নবী আরো অভিযোগ করেন,“ তিনি ফেনীতে সফরকালে দুলাল তাকে অভ্যর্থনা এমনকি বিভিন্ন স্থানে তার মোটর সাইকেলে ঘুরে বেড়ান। যার ফলে আমার গ্রেফতারের পেছনে তিনিও উৎসাহ দিতে পারেন।”

    এছাড়া দুলালের কর্মকান্ডে সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার মদদ রয়েছে বলেও জেলা ছাত্রদলের সাবেক এ সভাপতির দাবী। যারা দলের দায়িত্বে থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে এ ধরনের নেতাকর্মীরা আগামীতে যেন দলের পদ-পদবীতে স্থান না পান সেজন্য তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে আহবান জানান।

    দলীয় সুত্র জানায়, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করেন।তার এ বক্তব্যে দলের হাইকমান্ড ক্ষুব্দ হয়েছেন।পরবর্তী চারদিনের মধ্যে জবাব চেয়ে তাকে নোটিশ করা হয়েছে।দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়,“ আপনি ফেসবুক লাইভে হাজির হয়ে চট্রগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অসত্য বানোয়াট ও কুৎসামুলক বক্তব্য রেখেছেন-যা সম্পূর্ণ। দলীয় শৃংখলা পরিপন্থী।”সুতরাং কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা যাবে না তা কারন দর্শিয়ে আগামী ৪(চার)দিনের মধ্যে লিখিত ভাবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেরনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    অপরদিকে জেলা বিএনপিও এক বিজ্ঞপ্তিতে এয়াকুব নবীর বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছে।

    জেলা আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এয়াকুব নবীর বক্তব্যের সঙ্গে তারা একমত নয়।এ ধরনের বক্তব্য দলীয় শৃংখলা বিরোধী।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090