আজ

  • শুক্রবার
  • ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে অতিরিক্ত ভাড়ার সঙ্গে ভাড়তি যাত্রী গণপরিবহনে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • করোনা পরিস্থিতিতে শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে সীমিত যাত্রী দিয়ে সারাদেশে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয় গণপরিবহন গুলোকে। প্রতি দুইটি আসনে একটি আসন ফাঁকা থাকার শর্তে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। তবে ফেনীতে বর্তমানে বাড়তি ভাড়া বহাল থাকলেও শারীরিক দুরত্ব মানাসহ সরকারী নিদের্শনা মানার বালাই আর নেই বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী গণপরিবহনগুলোতে।

    বুধবার ফেনীর মহিপাল থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলরত গণপরিবহনে দেখা যায় এমন চিত্র। দীর্ঘদিন পর লকডাউন উঠে যাওয়ায় এবং দোকানপাটসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতের নিয়ম-কানুন কিছুটা পূর্বের ন্যায় বহাল হওয়ায় যাত্রীদের বেশ চাপ গণপরিবহনে লক্ষ্য করা যায়।

    এই সুযোগে বাসের প্রতিটি আসন তো বটেই এবং কি দাঁড়িয়ে যাত্রীদের বহন করা হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক ভাড়া ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও কোনো কোনো বাসে অবশ্যই যাত্রীদের ভাড়া দিতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ।

    ফেনী থেকে নোয়াখালী রুটে সুগন্ধা দ্রুতযানে আগে প্রতি সিটে ভাড়া ছিলো ৬০ টাকা। ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাড়াসহ এরুটে যাত্রীর প্রতি ভাড়া আসে ৮৫ টাকা। তবে যাত্রীদের থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১১০ টাকা। আর চৌমুহানি পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা। দাগনভূঞা পর্যন্ত পূর্বের ভাড়া ছিলো ১৫ টাকা এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। বাসের ভিতরে দেখা যায় প্রতিটি সিটেই রয়েছে যাত্রী এবং কিছু যাত্রী দাঁড়ানো।

    আশ্রাফ রায়হান নামে এক যাত্রী ক্ষোভের সাথে বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে শারিরীক দুরত্ব বজায় রেখে গণপরিবহনে সরকার ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি ঘোষণা দিলেও তারা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে এবং অতিরিক্ত যাত্রীও বহন করছে।

    আবদুল হালিম নামে বাসটির এক যাত্রী বলেন, প্রতিটি দিন এই ভাবে ঠেলাঠেলি করে, গাদাগাদি করে বাস যোগে আসা যাওয়া করতে হয়। ঝগড়া, প্রতিবাদ করলেও প্রতিদিন এই চিত্র দেখা যায়। এটা ধৈয্যের বাইরে। আমাদের দাবী একটাই ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া রহিত করে, স্বাভাবিক নিয়মে ভাড়া আদায় করে যান চলাচলের নির্দেশনা জারি করা হোক।

    আমরা করোনা ঝুঁকিতে নয়, বরং অর্থনৈতিক চরম ঝুঁকিতে পড়ে গেসি। এভাবে অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ ভাড়া আর দেওয়ার মতো কোনো কারণ অবশিষ্ট নেই। বাসের হেলপার এক্ষেত্রে যাত্রীদেরও দুষছেন।

    মো. হানিফ নামের এক হেলপার দাবী করেন, আমাদের তো কোনো দোষ নাই। যাত্রীরা ঠেলাঠেলি করে ওঠে পড়ে আর ভাড়া তো রেট করা। কম নিলে আমার হাজিরা থেকে কাটবে। একই চিত্র মহিপাল থেকে লক্ষীপুর ছেড়ে যাওয়া যমুনাসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনে।

    ভোক্তাধিকার ফেনী জেলা কমিটির সহ-সভাপতি জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী বলেন, যেহেতু গণপরিবহনে সামাজিক দুরত্বসহ সরকারী নিদের্শনা মানা হচ্ছে না। তাই বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে যাত্রীদের থেকে ন্যায্য ভাড়া আদায় করার নিদের্শনা দেওয়া হোক।

    ভোক্তাধিকার ফেনী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু বলেন, গণপরিবহন সরকারী নিদের্শনা বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরো স্বোচ্ছার হতে হবে। এছাড়াও করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা থাকায় বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করা উচিত।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090