আজ

  • রবিবার
  • ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এখনো গণমাধ্যমই জাতির আশা-ভরসার জায়গা

  • আদিত্য আরাফাত
  • দেশের গণমাধ্যম নিয়ে যত সমালোচনাই হোক, এখনো গণমাধ্যম জাতির আশা-ভরসার জায়গায় আছে।

    মিডিয়ার নানা সমালোচনার যৌক্তিক জায়গা থাকলেও এখনো গণমাধ্যম মানুষের কথা বলে। কিছু ফরমায়েশি রিপোর্ট হলেও, রাজনৈতিক পক্ষপাত থাকলেও সাংবাদিকতা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এখনো গণমাধ্যমে দেশের অনিয়ম-দুর্নীতির খবর দেখা যায়। যারা বলেন সব সাংবাদিক উন্নয়ন সাংবাদিকতা করেন তারা ভুল বলছেন।

    গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে- হলমার্ক, ডেসটিনি, বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি, বালিশকাণ্ড, ওয়াসায় কেজি দরে ঘুষ লেনদেন, ঠিকাদার জিকে শামীমের ঠিকাদারির নামে গণপূর্তে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাম্প কেনায় হরিলুটের তথ্যসহ নানা দুর্নীতির খবর। এসব প্রতিবেদনের আলোকে কখনো কখনো ব্যবস্থাও নেয় রাষ্ট্রের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান।

    সংবাদপত্র-টেলিভিশনে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, সমস্যা আর সম্ভাবনার খবর তুলে ধরে বলেই মানুষ জানতে পারছে সমাজে কি হচ্ছে। গণমাধ্যমের যারা একতরফা সমালোচনা করেন তারা একটু ভেবে দেখুনতো ‘গণমাধ্যমহীন বাংলাদেশ’ কেমন হবে?

    সাংবাদিকদের অনেকে দলদাশে পরিণত হলেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাও চোখে পড়ে। এসব বলার কারন আমাকে কেউ কেউ বলেন, ‘সাংবাদিকতা বলতে এখন আর কিছুই নেই’। এ ‘কিছুই নেই’ যারা বলেন তাদের সাথে আমি বিরোধীতা করি। সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। সব সাংবাদিকও অপ-সাংবাদিকতা করেন না।

    আমি মনে করি, সাংবাদিকতা আছে বলেই এখনো মানুষ তার ন্যায্য দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়ায়, সাংবাদিকরা একটু লিখবে বা বলবে বলে আমরন অনশন হয় কর্তৃপক্ষ’র নজরে আনতে। বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষের কথা এখনো বলে গণমাধ্যম। কখনো কখনো মজলুমের শেষ ভরসার জায়গা গণমাধ্যম।

    দিন দুয়েক আগে দেখলাম আওয়ামী লীগের এক প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের লোকজন এখন সাংবাদিকতা করে’। অন্যদিকে বিএনপি জামায়াতের কাছেও অবশ্য সাংবাদিকরা এখন সরকারের দালাল। দু’পক্ষের এমন মনোভাবেই মনে হয়, সাংবাদিকতা এখনো বেঁচে আছে। টিকে আছে। জয়তু সাংবাদিকতা।

    লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার, ডিবিসি নিউজ.টিভি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090