আজ

  • শনিবার
  • ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে গৃহস্থালীর বর্জ্যের পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা

  • নিজস্ব প্রতিনিধি
  • শেখ হাসিনার বাংলাদেশ পরিছন্ন পরিবেশ,শেখ হাসিনার নির্দেশ জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফেনীতে “গৃহস্থালীর বর্জ্যের পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার সকালে ফেনী পৌরসভার হল রুমে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় যুগ্ম সচিব লুবনা ইয়াসমীন। প্রধান আলোচক ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।

    ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলির সঞ্চালনায় ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের সহকারী পরিচালক খায়রুজ্জামান, ফেনী কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একরাম উদ্দীন, ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর বাহার উদ্দিন বাহার, সাবেক কাউন্সিলর আশ্রাফুল আলম গিটার, পৌরসভার সচিব আবু জাফর গিফরী, ফেনী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. কৃষ্ণ পদ সাহা, সেবক এগ্রোভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খালেদ আমিন। এসময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার সহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথি বলেন, আমি ফেনী এসে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখলাম কোথাও কোন ময়লা আমার চোখে পড়েনি। ফেনী পৌরসভার ময়লা ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো তবে আমি আসা করব আগামীতে আরো নতুন নতুন চিন্তার মাধ্যমে টেকনোলজি বায়ো ফুয়েল সহ অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থার উপর জোর দিতে হবে। সবাইকে ছোট ছোট আকারে রিচার্স করতে হবে, এবং এ নিয়ে বড় প্রকল্প হাতে নিতে হবে আমরা যাচাই বাচাই উপযোগী হলে প্ল্যান পাশ করতে চেষ্টা করব। সবাইকে মাথায় রাখতে হবে এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে, এখন নেটওয়ার্ক অনেক ভালো আমাদের এ সুযোগ সুবিধা নিতে হবে, আপনারা যত বেশি রিসার্চ করবেন প্রকল্প তত বেশি সুন্দর ও সফল হবে। রিসার্চ করে অর্গানাইজেশানের মাধ্যমে প্রজেক্ট গুলো নেয়ার আগে ভালো করে স্টাডি করতে। তাহলে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন সফলতা আসবে। এজন্য পৌরসভায় বসবাস কারী বাসিন্দাদের আগের চেয়ে আরো সচেতন হতে হবে তাহলে জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ভূমিকা পালন হবে।
    বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সমস্যা। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নতির কারণে বর্তমানে আমাদের দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা দিন দিন প্রকটতর হচ্ছে।

    বিশ্ব ব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের মধ্যে সারাদেশের বর্জ্য উৎপাদন ১৯৯৫ সালের তুলনায় ৪ থেকে ৫ গুন বেড়ে যাবে। বাংলাদেশের শহর ও নগর থেকে উৎপাদিত বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শহরে বসবাসকারী মানুষের জন্য এই সমস্যা বেশী হতে পারে। এই জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহের প্রধান দায়িত্ব হল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ উৎপাদিত মোট আবর্জনার ৫০% সংগ্রহ করতে পারে, বাকী আবর্জনা নিচু জায়গা, ড্রেন এবং রাস্তাঘাটে যত্রতত্র পড়ে থাকে। এর ফলে সেখান থেকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ ও ভূ-গর্ভস্থ পানি দূষণসহ পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং দুর্গন্ধসহ নানাবিধ রোগ-ব্যাধির জীবাণুর বিস্তার ঘটে। কম্পোস্টিং এর ফলে যেমনি বর্জ্য ডাম্পিং খরচ কমানো এবং ল্যান্ডফিল সাইটের জীবনকাল বাড়ানো সম্ভব, তেমনি ল্যান্ডফিল সাইট দ্বারা ক্ষতিকর পরিবেশগত প্রভাবও কমানো সম্ভব।

    মাটিতে জৈব বর্জ্যের পুনঃচক্রায়ন এবং পুনরাগমন নিশ্চিতভাবে টেকসই কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। জৈব সার ব্যবহারে জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের বিকল্প কাজের ও আয়ের উৎস সৃষ্টি করা সম্ভব। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর আর্থিক ও ডেনমার্ক সরকারের কারিগরী সহায়তায় পরিবেশ অধিদপ্তর সমগ্র বাংলাদেশের (পৌরসভা/মিউনিসিপ্যালিটিগুলোর) জৈব আবর্জনা ব্যবহার করে “প্রোগ্রাম্যাটিক সিডিএম” শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090