আজ

  • রবিবার
  • ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • নিজস্ব প্রতিনিধি
  • সেলিম আল দীন। বাংলা নাটককে যিনি প্রচলিত ধারা থেকে বের করে এনে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংমিশ্রণে নবরূপে ও ভিন্নমাত্রায় প্রাণবন্ত করেছেন। পাঁচালী রীতিতে লেখা তাঁর নাটক বাংলায় নতুন না হলেও উপস্থাপন রীতি প্রসেনিয়াম নাটকে প্রথম বৈকি! স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি নাটকের আঙ্গিক ও ভাষার উপর গবেষণা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

    নাট্যকার সেলিম আল দীনের জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট, ফেনী জেলার সোনাগাজীতে। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের তৃতীয় সন্তান। বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। সেই সূত্রে ঘুরেছেন বহু জায়গায়। লেখক হবেন এমন স্বপ্ন তিনি ছেলেবেলা থেকেই দেখেছেন। এ বিষয়ে তিনি পাকা সিদ্ধান্ত নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর। লেখক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালে। সে বছর কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে তাঁর একটি প্রবন্ধ দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি নাটকে জড়িয়ে পড়েন, যুক্ত হন ঢাকা থিয়েটারে।

    নাটকে তিনি বলেছেন, মানুষের কোনো আলাদা পরিচয় ও ঠিকানা নেই। এই পরিচয় ও ঠিকানা না থাকলে তার জাতও থাকে না। ‘চাকা’র শেষ দৃশ্যে আমরা দেখি, যখন মৃত মানুষটার ঠিকানা পাওয়া গেল না তখন তাকে মাটি ফেটে তৈরি হওয়া গর্তে ফেলে দেয়া হয়। সেলিম আল দীনের প্রাতস্বিকতা এখানেই। তাঁর রচিত ‘নিমজ্জন’ নাটকের শেষ দৃশ্যে ঢাকা থিয়েটারের তরুণ নাট্যকর্মীরা মুষ্ঠিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে বিস্তারিত দিগন্তের দিকে চেয়ে সমবেত কণ্ঠে যখন সংলাপ বলে যেতে থাকেন তখন দর্শকদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে গণহত্যাহীন এক স্বপ্নীল ভুবন, সৌরলোকের শান্ত-সুনিবিড় কোনো এক গ্রহ। মনে হয়, এসব কথা যেনো কোনো নাটকের সংলাপ নয়, চিরায়ত মহাকাব্যের অপূর্ব পঙ্ক্তি। যে পঙ্ক্তি মানুষের ভেতর এক ভিন্নতর বোধ ও ভাবনার জন্ম দেয়, জন্ম দেয় এক অপার্থিব পবিত্রতার।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090