আজ

  • শুক্রবার
  • ২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

তাকিয়া রোডে ১৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭, আংশিক উদ্ধার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ফেনীতে একজন ব্যবসায়ীর ১৪ লাখ ৮২ হাজার ২০০ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ৭ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকারীদের নিকট থেকে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা, ছিনতায়ের টাকার কেনা তিনটি নতুন মুঠোফোন সেট ও ৫টি কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, ছিনতায়ের সময় ব্যবহৃত ২টি দা উদ্ধার করে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার সাতজন ছিনতাইকারী হলেন-ফেনীর দাগনভূঁঞার চন্দ্রপুর গ্রামের (বর্তমানে ফেনীর রামপুর) দেলোয়ার হোসেন বাবু (২০), ফেনী সদরের সুন্দুরপুরের ওমর ফারুক আরমান (২০), ফিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার (বর্তমানে ফেনীর রামপুর) সুমন সিকদার (২১), গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের (বর্তমানে ফেনীর রামপুর) মো. সাকিব খান (২০), ফেনীর দাগনভূঁঞার তুলাতলীর (বর্তমানে রামপুর) নূরুল ইসলাম রনি (২১), লক্ষীপুরের চন্দ্রগঞ্জের (বর্তমানে ফেনীর রামপুর) মো. শিপন (২২) ও ফিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার (বর্তমানে ছিনতাইকৃত টাকার মালিকের বাসার ভাড়াটিয়া) আল আমিন (২৫)।

    আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় ফেনীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. বদরুল আলম মোল্লা জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতরা বিভিন্ন জেলার লোক হলেও সবাই একটি বিশেষ ছিনতাই চক্রের সদস্য ও পরস্পর বন্ধু এবং শহরের রামপুর এলাকায় বসবাস করেন।

    তিনি জানান, গত ৬ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে ফেনী শহরের তাকিয়া রোডের সম্রাট মেজর ফ্লাওয়ার মিলের বিক্রয় প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন চৌধুরীসহ দুইজন কর্মচারী বিভিন্ন দোকান থেকে বকেয়া টাকা সংগ্রহ করে ফ্লাওয়ার মিলের অফিসে জমা দেওয়ার জন্য যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে এবং এলোপাথাড়ী পিটিয়ে ও কুপিয়ে ১৪ লাখ ৮২ হাজার ২০০ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

    এঘটনায় মামলা হলে ফেনী থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশের অপর একটি বিশেষ টিম মাঠে নামে। ভিডিও ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রথমে ঢাকা থেকে দুইজন এবং তাদের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও ফেনী থেকে ৫ জনসহ মোট সাত জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের নিকট থেকে নগদ ৪ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা, ছিনতাইয়ের টাকায় কেনা তিনটি নতুন মুঠোফোন সেট ও ৫টি কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত ২টি দা উদ্ধার করে পুলিশ।

    তিনি জানান, গ্রেপ্তার সাত জনের মধ্যে দেলোয়ার ও আরমান পেশাদার ছিনতাইকারী। তাদের সবার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা গত কিছু দিন থেকে সম্রাট মেজর ফ্লাওয়ার মিলের আমদানির টাকা ছিনতাইয়ের জন্য পরিকল্পনা করে আসছিল। দলের সদস্য আল আমিন সম্রাট মেজর ফ্লাওয়ার মিলের মালিকের বাসার ভাড়াটিয়া ও ছিনতাই দলের তথ্য দাতা। ৬ জানুয়ারি বেশী টাকা সংগ্রহ করে মিল কর্মচারীরা অফিসে যাচ্ছে ওই সংবাদ আল আমিন তার বন্ধুদের জানায়। সে তথ্য অনুয়ায়ী কর্মচারীদের পথরোধ ও পিটিয়ে কুপিয়ে আহত করে টাকাগুলি ছিনতাই করা হয়। তারা সবাই সম্রাট মিলের টাকা ছিনতাইয়ের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। রাত ৮টার দিকে শহরের প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র তাকিয়া রোড থেকে ১৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পুলিশ প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বদরুল আলম মোল্লা ১০ লাখ টাকার টাকার অধিক টাকা লেনদেন বা পরিবহনের সময় প্রয়োজনের পুলিশের সহযোগীতা নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীসহ সহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

    প্রেসব্রিফিং কালে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থোয়াই অং প্রু মারমা, ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ এবং সম্রাট মেজর ফ্লাওয়ার মিলের পক্ষে ওবায়দুল হক ও তাজ উদ্দিন সম্রাট উপস্থিত ছিলেন।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090