আজ

  • বুধবার
  • ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে খুন হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বাবুর দাফন: জানাজায় মুসল্লীদের ঢল

  • সোনাগাজী প্রতিনিধি
  • হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ে পারিবারিক কবরাস্থানে চির নিন্দ্রায় শায়ীত হলেন ফেনীতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া বিশ্ব বিদ্যালয় ছাত্র মো. ইউনুস বাবু। তাকে শেষ বিদায় জানাতে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের হাজারো মুসল্লী অংশ নেন তার নামাজে জানাজায়। সবার চোখে ছিল শোকের ছায়া। উপস্থিত সবাই ছিল গভীর শোকে শোকাতুর।

    সোমবার রাত সাড়ে আটটায় সোনাগাজীর বগাদানা ইউনিয়নের ওসমানিয়া আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে তার নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হয়।

    জানাজার নামাজে নেয়ার পূর্বে তার মায়ের বিলাপে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। প্রিয় ছেলের মরদেহের দিকে হাত বাড়িয়ে বিলাপ করতে থাকেন, ও হুতরে (ছেলে) তোরে কিল্লায় করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে এক লাখ টাকা পাঠিয়ে চীন থেকে বাংলাদেশে এনেছিলাম। ও হুত তোরে আল্লাহর দেয়া করোনা ভাইরাসতুন তোরে রক্ষা করতে পারলেও বুঝি পাষন্ডদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলামনা। ও হুত তোরে এত কষ্ট করে কিল্লায় মানুষ করেছিলাম। ও আঁর শাম সুন্দর হাসি খুসি হুত, তোরে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে আই ফোন কিনে দিয়েছিলাম। আঁর হুত প্রতিদিন সেই মোবাইল দিয়ে অনলাইনে ক্লাস করত। ও হুত তুই আঁরে সহ লইযা। এইসব বিলাপ করতে করতে প্রিয় সন্তানের মরদেহ বুকে টেনে নিতে চান মা রেজিয়া বেগম। কিন্তু সাদা কফিনে মোড়ানো সন্তানের গলিত মরদেহের কাছে যেতে স্বজনদের বাধা। কোনভাবেই বাবুর মায়ের আহাজারি থামাতে পারছেননা স্বজনরা।

    পারিবারিক সূত্র জানায়, সোনাগাজীর বগাদানা ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের সওদাগর বাড়ির আবু ইউছুপের বড় ছেলে মো. ইউনুস বাবু। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে বাবু ছিল সবার বড়। সে ফেনীর আইসিএসটি থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে স্কলারশিপ নিয়ে দেড় বছর যাবৎ চীনের আহট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারং পড়ছে। করোনাকালীণ সময়ে দেশে এসে পিতা-মাতার সাথে ফেনী শহরের শাহীন একাডেমী রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকত। গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তার বন্ধু ইউনুস নবী রাকিব ও শাহারিয়া তাকে মোটরসাইকেলযোগে বাসা থেকে ডেকে আনেন। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ফেনী শহরের পাঠানবাড়ি এলাকার সফিকুর রহমান সড়কের তাসফিয়া ভবনের সেপটিক ট্যাংকে থেকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় বাবুর বন্ধু শাহারিয়াকে উদ্ধার করা হয়। সে চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। একই ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে ইঞ্জিনিয়ার বাবুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    ১১ অক্টোবর রোববার তার মা বাদি হয়ে ফেনী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কদলগাজী তেমুহানীর রেনু হাজারীবাড়ির নূর আলমের ছেলে ইউনুস নবী রাকিব ও তাসফিয়া ভবনের কেয়ারটেকার দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ জায়লস্কর গ্রামের ফকির হাফেজ বাড়ির মো. সেলিমের ছেলে মোজাম্মেল হক শাহীনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। সোমবার দুপুরে ওই মামলায় তাসফিয়া ভবনের কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    এসময় ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন স্বপ্রণোদিত হয়ে ইঞ্জিনিয়ার বাবুকে হত্যার কারণ জিজ্ঞাসা করলে মোজাম্মেল হক শাহীন জানায়, পূর্ব বিরোধের জেরে ডেকে এনে শাহীন ও ফেনী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবসহ তাদের সহযোগীরা ইঞ্জিনিয়ার বাবুর বন্ধু শাহরিয়ারকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কোপায়। এ সময় বাবু এগিয়ে এসে বাধা দিলে তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে দুইজনকে হাত-পা বেঁধে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়।

    বাবুর মা রেজিয়া বেগমের ধারণা- বাবুর কাছে একটি দামি আইফোন এবং তার বন্ধু শাহরিয়ার কাছে থাকা মোটরসাইকেল আত্মসাৎ করতে বাবু ও শাহরিয়ারকে পরিকল্পিতভাবে উপর্যুপরি কুপিয়ে সেপটিক ট্যাংকে ফেলা হয়েছে। তিনি দ্রুত রাকিবকে আইনের আওতায় এনে হত্যা রহস্য উন্মোচন করে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুদ্বীপ রায় জানান, বাবুর বন্ধু শাহারিয়া এই মামলায় প্রধান সাক্ষী হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি রাকিবকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090