আজ

  • মঙ্গলবার
  • ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সেই নার্সের বদলি

  • সোনাগাজী প্রতিনিধি
  • ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত নার্স রেখা পালের অবহেলায় গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নার্স রেখাকে নোয়াখালীর হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শাস্তি মূলক বদলি করা হয়েছে।

    বুধবার স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ছিদ্দিকা আক্তারের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদফতর থেকে বদলির আদেশ প্রদান করা হয়।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ বদলির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নার্স রেখা পালের বদলির আদেশ আজ বৃহস্পতিবার আমরা হাতে পেয়েছি। আগামী ১৮ আগস্ট সোনাগাজী সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার শেষ কর্ম দিবস। এবং ১৯ আগস্ট নোয়াখালীর হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের নির্দেশ রয়েছে।

    সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স রেখা পালের অবহেলার অভিযোগে গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় প্রসবের সময় এক নবজাতক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ফেনী সিভিল সার্জন সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষে টনক নড়ে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে তাকে ওই বদলির আদেশ প্রদান করা হয়।

    নবজাতকের বাবা রাশেদ আলম বলেন, গত ২৫ জুলাই শনিবার সকালে তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের (২০) প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে জেসমিনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি হাসপাতালের জান্নাতুল ফেরদৌস নামে একজন মিডওয়াইফের সাথে কথা বলেন। তিনি প্রসূতিকে প্রসবের কক্ষে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এ সময় নার্সিং সুপারভাইজার রেখা পাল ওই কক্ষে প্রবেশ করে মিডওয়াইফকে ভর্ৎসনা করে বের করে দেন। রেখা নিজেই তার স্ত্রীকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথা কমার জন্য ইনজেকশন ও ওষুধ দিয়ে বলেন, নবজাতকের সবকিছু ঠিক আছে। এখানে নবজাতকের প্রসব করাতে হলে তাকে আট হাজার টাকা দিতে হবে। সন্ধ্যায় শিশুটি প্রসবের পর শিশুর কোনো নড়াচড়া না দেখে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। পরে মৃত নবজাতকের গলায় কয়েকটা আঁচড় দেখতে পান। এবং শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ওষুধ আনার কথা বলে নার্স রেখা পাল পালিয়ে যান। এরপর তাকে আর হাসপাতালে দেখা যায়নি। রাতে রেখা রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে নবজাতকের পরিবারকে সমঝোতার প্রস্তাব দেন।

    এ ঘটনায় নবজাতকের বাবারাশেদ আলম হত্যার অভিযোগ এনে নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি পরিচালক (প্রশাসন) ও ফেনী সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090