আজ

  • মঙ্গলবার
  • ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক ফেনী সরকারী কলেজ

  • মো. মোশারফ হোসেন মিলন
  • দক্ষিন-পূর্ব বাংলার প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী ও শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ফেনী সরকারী কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন শুরু হয় ১৯১৮ সালে জনাব খান বাহাদুর বজলুল হকের নেতৃত্বে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে। কমিটির প্রথম সভাপতি ছিলেন ফেনীর তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক জনাব আকরামুজ্জামান খান।

    কমিটির তৎকালীন সদস্যরা ফেনী হাই স্কুল (বর্তমানে ফেনী সরকারী পাইলট হাই স্কুল) কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বার্ষিক এক টাকা চার আনা খাজনায় লাল বিল্ডিং বা পুরাতন প্রশাসনিক ভবনটিতে কলেজের কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯২২ সালের ৮ আগস্ট বাংলা, ইংরেজী, আরবি, ফার্সি, সংস্কৃত, গনিত, ইতিহাস ও যুক্তিবিদ্যা বিষয় গুলি যুক্ত করে ১৪৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আই এ ক্লাস শুরু হয়। শুরু থেকেই সুনামের সহিত পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে পরিচালনার কারনে মাত্র ২ বছরের মাথায় ১৯২৪ সালে কলেজটি প্রথম শ্রেনির মর্যাদা লাভ করে। সেই ধারাবাহিকতায় ঐ বছরই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আরবি ও ইতিহাস বিষয়ে অর্নাসসহ ডিগ্রি পর্যায়ে বিএ কোর্সে পাঠদান অনুমোদন করা হয়। ১৯২৬ সালের ১০ আগস্ট তৎকালীন ব্রিটিস গর্ভনর স্যার হিউ ল্যান্সডাউন স্টিফেনসনককলেজ মূল ভবনের দোতলা উদ্বোধন করেন।

    ফেনী কলেজ স্থাপনে ফেনী শহরের মাস্টার পাড়ার হাজারী বাড়ি ও ছাগলনাইয়ার সাহা পরিবার জমি ও অর্থ প্রদান করেন। এছাড়াও কলকাতা ও রেঙ্গুন প্রবাসী এই অঞ্চলের অনেকে উদারহস্তে অর্থ সাহায্য করেছিলেন। ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কলেজ তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থানান্তরিত হয়। যুদ্ধশেষে পুনরায় ফেনী কলেজ স্বস্থানে ফিরে আসে। ফেনী কলেজ ফিরে আসলেও ফেলে আসা অবকাঠামোতে পরবর্তীতে সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ফেনী কলেজে ১৯৪১ সালে আই কম ও ১৯৪৭ সালে আই এস সি কোর্স চালু হয়। ১৯৬২ সালে বি কম ও ১৯৬৪ সালে বি এস সি কোর্স চালুর মাধ্যমে কলেজ পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি কলেজে রূপান্তরীত হয়। ১৯৭৯ সালের ৭ মে কলেজ জাতীয়করনের মাধ্যমে সরকারী হয়ে ফেনী সরকারী কলেজ নামে নব যাত্রা শুরু করে।

    ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে অর্নাস কোর্স ও ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে মাস্টাস শেষ পর্বের কোর্স চালু হয়। বর্তমানে ১৫টি বিষয়ে অর্নাস কোর্স ও মাস্টাস শেষ পর্ব চালু রয়েছে। ফেনী সরকারী কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখা অন্যত্র স্থানান্তরের লক্ষ্য মহিপালে জায়গা অধিগ্রহন করে সেখানে একটি ভবনও নির্মাণ করা হয়, কিন্তু পরবর্তীতে ভবনসহ সে জায়গাটি তৎকালীন ফেনী কমার্সিয়াল ইনিস্টিটিউটকে হস্তান্তর করা হয়, যা বর্তমানে মহিপাল সরকারী কলেজ নামে পরিচিত। এছাড়াও বর্তমানে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল ও শিক্ষা অফিস ভবনটি ফেনী সরকারী কলেজের হস্তান্তরকৃত জায়গায় অবস্থিত।

    যে প্রতিষ্ঠানটি ১৪৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলার পথ শুরু করেছিল শত বর্ষের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীর কলকাকলিতে মূখর। অফুরন্ত ভালোবাসা নিয়ে গৌরবময় প্রাণের এই প্রতিষ্ঠান মহীরূহ হয়ে থাকবে অনন্তকাল ধরে।

    লেখক :
    মো. মোশারফ হোসেন মিলন
    সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক শিক্ষার্থী
    ফেনী সরকারী কলেজ, ফেনী।


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090