আজ

  • বৃহস্পতিবার
  • ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ১৪ লাখ ইট লুট করলো ছাত্রলীগ নেতা

  • নিজস্ব প্রতিনিধি
  • ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বৈরাগপুরের নিউ পরফুল ব্রিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হাছানকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ফুলগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদার ১৪ লাখ ইট লুট করে নিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে মাহমুদুল হাছান। তিনি একজন কোরআনে হাফেজ। এলাকায় সব মানুষের কাছে হুজুর নামে পরিচিত।

    সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল হাছান অভিযোগ করে বলেন, নিউ পরফুল ব্রিকফিল্ডে অগ্রিম ইটের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদার। এই কৌশলে চুক্তিবদ্ধ ইটের নামে ব্রিকফিন্ডে দফায় দফায় হানা রসিদ বিহীন ইট নিতে থাকে। একপর্যায়ে তিন লাখেরও বেশী ইট নেয়ার পর মাহমুদুল হাছান শামীমকে ‘এখনো ইট নেয়া শেষ হয়নি’ জিজ্ঞেস করলে প্রকাশ্যে পিস্তল দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। এছাড়া ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম ডেকে নিয়ে হাছান মাহমুদকে অন্য কাউকে ইট দিতে নিষেধ করে। অব্যাহত হুমকি রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে গত ২৩ মার্চ আত্মগোপনে চলে যায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হাছান। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে অন্য ক্রেতারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে বসে ইট ডেলিভারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে চুক্তিপত্রে শামীমও স্বাক্ষও করে। চুক্তিপত্র না মেনে শামীম ক্ষমতা আর ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার সপ্তম সাহার সাথে আঁতাত করে টানা ১ মাস ভাটা থেকে ১৪ লাখ ইট লুট করে নিয়ে যায়। প্রতিবাদ করতে হাছান মাহমুদের স্ত্রী গেলে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিভিন্ন জায়গায় বিচারের জন্য গিয়ে বিচার না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছন।

    তিনি আরও বলেন, শামীমের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অতিষ্ট ব্রিকফিল্ড মালিকরা। গত বছর একই কায়দায় পার্শ্ববর্তী এস আলম ব্রিকফিল্ডে ইট লুট করে নিয়ে যায় শামীম। পুলিশ চারটি ট্রাক আটক করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক বড় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হয়। তারপর কিছুদিন থেমে থাকলেও আবার শুরু হয় তার নৈরাজ্য।

    বর্তমানে ব্রিকফিল্ডের প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিকেরও বেতন বকেয়া। গ্রাহক আর শ্রমিকের চোখে-মুখে এখন শুধুই অন্ধকার। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, কেউ ঘর, কেউ রাস্তা আবার কেউ ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে অগ্রিম ইট কিনে রেখেছিল নিউ পরফুল ব্রিকফিল্ড থেকে। প্রত্যেক গ্রাহক ইটের জন্য ভাটায় এসে অপেক্ষা করছে। শামীম সব ইট নিয়ে যাওয়াতে অন্য গ্রাহকের সে রোষানলে পড়ছে।

    এব্যাপারে শামীম মজুমদার বলেন, ‘আমি ৩লাখ ইটের জন্য বিভিন্ন কিস্তিতে ৭লাখ টাকা দিয়েছি। এরমধ্যে কিছু ইট নিয়েছি। এখনো বেশীর ভাগ ইট বাকী। এরমধ্যে মালিক পালিয়েছে। ইট অথবা টাকা কীভাবে উদ্ধার করবো এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

    ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার বলেন, আমিও ইটের জন্য বেশ কিছু টাকা দিয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা শামীমের কোনো কাজের সাথে আমি জড়িত নয়।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090