আজ

  • সোমবার
  • ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সোনাগাজী সরকারী কলেজ : অতিরিক্ত টাকা ফেরত পেলো শিক্ষার্থীরা

  • সোনাগাজী প্রতিনিধি
  • ফেনীর সোনাগাজী সরকারী কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সময় প্রায় সাড়ে চারশ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৮০ টাকা করে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়। মঙ্গলবার ও বুধবার শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকাগুলো ফেরত দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

    শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কলেজ সূত্র জানায়, গত আগষ্ট মাসের প্রথমে সোনাগাজী সরকারী কলেজে ৪৪৪ জন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। ভর্তির ফি ও আনুষাঙ্গিক টাকার সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৮০ টাকা করে বেশি আদায় করে। গত কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি আচ করতে পেরে। তাদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদেরকে অনুরোধ করে। কিন্তু এতে কোন লাভ হয়নি। মঙ্গলবার দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কলেজে এসে অফিস সহকারী আবু তাহেরের কাছে তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া টাকাগুলো ফেরত চাইলে। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে কলেজ ক্যাম্পাসে অফিস সহকারী আবু তাহেরের অপসারণ ও অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার দাবীতে বিক্ষোভ করে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় শিক্ষাক ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে টাকা ফেরতর দেওয়ার আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেয়।

    শিক্ষার্থীরা জানায়, একাদশ শ্রেণিতে তাদের তিনটি পরীক্ষা নেওয়া হয়। দ্বাদশ শ্রেনিতে পরীক্ষা নেওয়া হয় দুটি। প্রতিটি পরীক্ষার ফি ধরা হয় ২৮০ টাকা। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পরীক্ষার কথা বলে অফিস সহকারী আবু তাহের তিনটি পরীক্ষার ফি বাবত ৮৪০ টাকা আদায় করে নেয়। পরে বিষয়টি তারা জানতে পেরে অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী আবু তাহেরের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে পরে সমাধান করে দিবেন বলে তাদেরকে তাড়িয়ে দেন।

    তারা আরও বলেন, টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলায় অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মহি উদ্দিন চৌধুরী গত তিনদিন কলেজে আসেন নি। অফিস সহকারীও কলেজে এসে লুকিয়ে কাজ করেছেন। তাই বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলন করায় তাদের দাবী পূরণ হয়েছে। তারা অফিস সহকারী আবু তাহেরের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাকে সোনাগাজী সরকারী কলেজ থেকে অপসরাণ করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিটক জোর দাবী জানান।

    দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ইকবাল হোসেন বলেন, অফিস সহকারী আবু তাহের এখানে দীর্ঘদিন ধরে চাকুরী করায় তিনি কলেজের পরিবেশ খারাপ করে ফেলেছেন। তিনি টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না। তার কাছে কোন কাজে গেলে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরন করে থাকেন। তার ইন্দনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নেয়ামত উল্যাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কলেজের অফিস সহকারী আবু তাহেরের অন্যায়, অনিয়ম, দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তিনি কলেজে শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দাবী-দাওয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছেন।
    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়া টাকাগুলো তার হস্তক্ষেপে কর্তৃপক্ষ ফেরত দিয়েছেন।

    এ বিষয়ে কথা বলতে কলেজে গিয়ে অফিস সহকারী আবু তাহেরকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনেও একাধিকবার চেষ্টা করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব্য হয়নি।

    জানতে চাইতে কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহি উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি। তবে ভর্তির সময় মডেল টেষ্ট পরীক্ষার জন্য তাদের কাছ থেকে ২৮০ টাকা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করায় তাদের টাকা তাদেরকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। কেউ শিক্ষার্থীদেরকে এবিষয়ে উস্কানী দিয়েছে। না হয় শিক্ষার্থীরা এমনটি করত না। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুইশ জন শিক্ষার্থী তাদের টাকা বুঝে নিয়েছে। বাকীদের টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

    অফিস সহকারীর, দূর্নীতি ও অপসারণসহ তিনি কর্মস্থলে না থাকার বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, অফিস সহকারীর অনিয়মের বিষয়টি কেউ লিখিত ভাবে তাকে জানাননি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলেন তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, বুধবার সকালে সরকারী ভাবে ছুটি নিয়ে অফিস সহকারী আবু তাহের তার স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই গেছেন।

    সম্পাদনা : এএএম/এপি/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090