আজ

  • সোমবার
  • ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছাগলনাইয়ায় আ.লীগের দু’পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে চেয়ারম্যানসহ আহত ৭

  • ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি
  • ফেনীর ছাগলনাইয়ায় আওয়ামী লীগের বিবদমান পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার ছাগলনাইয়া পৌর শহরের জমাদ্দার বাজারে চেয়ারম্যানসহ কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছে। সদ্য শপথ নেয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এনামুল হক মজুমদারের উপস্থিতিতে তার সমর্থকরা ঘোপাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিকসহ কমপক্ষে চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক ঘন্টা ধরে চলা সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ বিপুল সংখ্যক ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জমাদ্দার বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

    সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সদ্য ঘোষিত ঘোপাল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক পৌর শহরের জমাদ্দার বাজারে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে ফুল দিতে আসেন। ওই সময় আওয়ামীলীগ অফিসের বাহিরে ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শামীম মেম্বারের সঙ্গে পূর্ব শুত্রুতার জের ধরে নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হকের সমর্থক হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা বাঁশপাড়া গ্রামের নবীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ওই সময় দু-পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরে ভাইস চেয়ারম্যান এনামের ভাতিজা আওয়ামীলীগ অফিসে এসে বাকবিতন্ডতায় জড়ালে সেখানে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসে অবস্থান নেতা বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এনামের লোকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দুপুর আড়াইটার দিকে দু-পক্ষের মধ্যে মীমাংসার জন্য দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুদ্দিন আহম্মদ বুলু মজুমদারের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, ছাগলনাইয়া থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা, ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক নিজাম উদ্দিন মজুমদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, পাঠাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল হায়দার চৌধুরী জুয়েল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক মজুমদার, ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী জেলা পরিষদের সদস্য কাজী ওমর ফারুক, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিয়াউল হক দিদারের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ কয়েকশ নেতাকর্মী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দু-পক্ষ এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আর যেন কোন ধরণের বিরোধ না থাকার কথা জানানো হয়। দলের নেতাকর্মীদের মিলে-মিশে দলকে সংগঠিত রাখার আহবান জানানো হয়।

    বৈঠকে দু-পক্ষের মীমাংসার পর ঘোপাল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো শেষে কয়েক গজ দূরে জমাদ্দার বাজারের জিরো পয়েন্ট দিয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘোপালের দিকে রওয়ানা হওয়ার পথে দুপুর ৩টায় ছাগলনাইয়া ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এনামুল হক মজুমদারের উপস্থিতিতে তার লোকেরা ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঘোপাল আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মানিকসহ তার লোকজনের ওপর হামলা করে। এ সময় আজিজুল হক মানিক চেয়ারম্যান (৫১), ঘোপাল ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক (৫৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন (৪৫) বাঁশপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য একরাম হোসেন (৩৪) ও ছাত্রলীগের কর্মী রুবেলসহ কমপক্ষে সাতজন আহত হয়। নেতাকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হামলার খবর পেয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় মিছিল করে। ছাগলনাইয়া থানার ওসি নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ বিকেল ৪টা পর্যন্ত গুলির আওয়াজ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    ঘটনার ব্যাপারে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এনামুল হক মজুমদার বলেন, তিনি মানিক চেয়ারম্যানসহ তার লোকজনদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।

    ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগ ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে মিমাংসিত বিষয়ের জের ধরে একজন জনপ্রতিনিধিসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা কোনভাবেই নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারেন না। এ ঘটনার বিচার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

    ছাগলনাইয়া থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    সম্পাদনা : এএএম/এপি/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090