আজ

  • শুক্রবার
  • ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে কাস্টমস্ কর্মকর্তার অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিবাদে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ফেনী সদর সার্কেলের কাস্টমস কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিবাদে ফেনী জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

    ০২ মে রোববার দুপুর ২টায় ফেনী শহরের বেস্ট ইন চাইনিজ রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেনী জেলা বিকস্ ফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি জাফর উদ্দিন।

    লিখিত বক্তব্য তিনি উল্লেখ করেন- ফেনীর কাস্টমস কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান কাস্টমস্ সুপার পদে বদলি হয়ে ফেনী আসার পর তার অসহযোগিতা, অসৌজন্যমূলক আচরণ, কথায় কথায় হুমকি-ধমকি, অনৈতিক চাপ প্রয়োগ, ব্যবসায়ীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা সহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। কামরুজ্জামানের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামে হওয়ায় তিনি বিভিন্ন লোকজনের নাম ভাঙিয়ে দম্ভোক্তি করেন। দুর্নীতি পরায়ন কাস্টমস কর্মকর্তা কামরুজ্জামান কোনো-না-কোনো উসিলায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সময় উপঢৌকন দাবি করেন। যেমন: বছরে একাধিকবার নিজের ও পরিবারের জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফেনী আগমন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার কথা বলে ব্যবসায়ীদের প্রায় বিরক্ত করে করতেন। নিয়মিত সরকারী কর দেওয়া সত্ত্বেও তিনি বরাবরই অতিরিক্ত টাকা দাবি করে আসছেন। কোনো কোনো সময় কাস্টমস অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার কথা বলেও তিনি অনৈতিক সুবিধার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। ফেনীর ব্যবসায়ীগণ তার এসব অন্যায় অবিচার মুখ বুঝে সহ্য করে আসায় তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার হয়রানি অনিয়ম দুর্নীতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনৈতিক চাপ প্রয়োগে ব্যবসায়ীরা আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রধান কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

    লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ফেনীর প্রতিটি ইটভাটা থেকে আইনের ভয় দেখিয়ে জোর জবরদস্তি মূলকভাবে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান। তিনি প্রতিটি ইটভাটা থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেও ক্ষান্ত হননি তাকে আরও সুবিধা দিতে এবং ঈদকে সামনে রেখে ঈদ সালামি দেওয়ার জন্য প্রতি চাপ প্রয়োগ করে আসছেন।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ এপ্রিল কাস্টমস্ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান- আলম ব্রিকফিল্ডে এককভাবে হানা দিয়ে একটি পিকআপ জোর করে নিয়ে আসেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ফেনী কাস্টমস অফিসের ছুটে যায়। তিনি কেন পিকআপ আটক করেছেন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি অসৌজন্যমূলক দম্ভোক্তি আচরণ করেন।

    গত কিছুদিন আগে কাস্টমস কর্মকর্তা কামরুজ্জামান গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে অনৈতিক সুবিধা নিতে হানা দেন। কর্তৃপক্ষ অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকার করায় সেখানে দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান এর সাথে বাদানুবাদ উত্তেজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    এমতাবস্থায় ব্যবসায়ীরা দাবি করেন- দুর্নীতি পরায়ন কাস্টমস কর্মকর্তা কামরুজ্জামান ফেনীতে থাকলে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে তেমনি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের বদনাম ছড়িয়ে যাবে। তাকে ফেনী থেকে অপসারণের মাধ্যমে তার অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

    এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাস্টমস কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান এসব অভিযোগ অলৌকিক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ব্যবসার বিভিন্ন খাতে সরকারের টার্গেট দেওয়া আছে। সেগুলি আদায় করতে গেলেই বিপত্তি দেখা দেয়। কোন ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেন না বলেও তিনি দাবি করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জুয়েলারী সমিতির সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক বাচ্চু, ফেনী চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক কেবিএম জাহাঙ্গীর আলম, বজলুল করিম মজুমদার হারুন, শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী, সুলতানা মাহমুদ শাখা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জুয়েলারী সমিতির সভাপতি ইসমাইল হোসেন খোকন, ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আনিছুল হক, রেস্তোরা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক নুরুল কবির শাহাজাদা, হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম, থাই এ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফখরুল ইসলাম, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ইমনুল হক, করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আমজাদ, সুইটস এন্ড বেকারী মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজ চৌধুরী সহ ফেনী জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090