আজ

  • সোমবার
  • ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভূক্তির দাবিতে মানববন্ধন

  • নিজস্ব প্রতিনিধি
  • সংশোধনী জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ তে বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা-১৮ সংশোধনীতে বেসরকারি কলেজের অনার্স মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে এমপিওভুক্তির দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর হতে তিনদিনের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন।

    সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মো. মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মসূচিতে দেশের ৮টি বিভাগের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় রাজশাহী বিভাগের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের গ্রামের দরিদ্র ও গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ২৮ বছর ধরে এসব শিক্ষকেরা শুধুমাত্র জনবল কাঠামো না থাকার কারণে এমপিওভুক্তির বাহিরে রয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জনবল কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। উক্ত সংশোধনীর প্রথম সভায় অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে সরকারের পলিসির বিষয় উল্লেখ করে অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের নীতিমালার বাহিরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন সংশোধনী কমিটি।

    ময়মনসিংহ বিভাগের নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বেসরকারি কলেজ গুলোতে অনার্স মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয় ২৮ বছর আগে কিন্তু এই শিক্ষকদের জন্য আজ পর্যন্ত কোন সরকারি নীতিমালা তৈরি করা হয় নি। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পাঠদানের অনুমতি, সিলেবাস প্রণয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ফলাফল প্রকাশসহ সকল কার্যক্রম তদারকি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বেতন/এমপিও বেলায় সরকারি সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। বহু দেন দরবারের পরে এসব শিক্ষকদের বেতন ভাতা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচলিত স্কেলে শতভাগ প্রদানের আদেশ জারি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো ফান্ড না থাকার কারণ দেখিয়ে উক্ত আদেশ না মেনে কলেজ ভেদে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতন প্রদান করে। আবার অনেক কলেজ সেই টাকাও দিতে চায় না। শিক্ষকদের উক্ত বেতনে বর্তমান বাজারে পরিবারের ভরণপোষণ ও দিনানিপাত করা অসম্ভব। এছাড়া করোনা মহামারীতে বর্তমানে ৫\৬ মাস হলো শিক্ষকেরা ন্যূনতম যে বেতন দেয়া হতো সেটাও বন্ধ রয়েছে।

    এসকল শিক্ষকদের সমস্যা স্থায়ী সমাধানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে বিগত দিনে তিনটি নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রদান করা হয় যা আজও বাস্তবায়ন হয় নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দুটি সুপারিশ ও শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুজন মহাপরিচালকের দুটি সুপারিশ থাকার পরেও অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি। এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একই সিলেবাসে পাঠদান করিয়ে পূর্বে ৪৫ টি জাতীয়করণ কলেজের অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা ক্যাডার ভুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে ২৭৫টি কলেজের অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা নন ক্যাডার হিসাবে আত্মীয়করণ হতে যাচ্ছে। আবার একই এমপিওভুক্ত কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ও ডিগ্রি শিক্ষকেরা এমপিওভুক্ত এবং মাদ্রাসা পর্যায়ে ফাজিল ও কামিল কোর্সের শিক্ষকেরা এমপিওভুক্ত হতে পারলেও আমরা কলেজ পর্যায়ে অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা আজও এমপিওভুক্ত হতে পারি নি, যা অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক। উল্লেখ্য, আমাদের যৌক্তিক দাবির স্বপক্ষে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে অনেক বার সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও পত্রিকার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ আমাদের দাবি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে নি।

    তাই চলমান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ সংশোধনীতে বেসরকারি কলেজের অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বেতন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

    এ সম্পর্কে সংগঠনের আহবায়ক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, শুধুমাত্র জনবল কাঠামোর অজুহাতে দীর্ঘ ২৮ বছর থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধার (এমপিও)বাইরে কেনো আমাদের রাখা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা প্রবলভাবে বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা আমাদের মানবিক দাবি মেনে নিবেন।

    সদস্য সচিব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, উচ্চ শিক্ষায় নিয়োজিত সাড়ে ৫০০০ হাজার শিক্ষকের বেতন ভাতার দাবি এবং জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মেনে নেবেন।

    উক্ত কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিভাগের শাহ মো. রকিবুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগের মাসুম বিল্লা, বরিশাল বিভাগের মোখলেছুর রহমান মনি, খুলনা বিভাগের তরিকুল ইসলাম, রংপুর বিভাগের মেহরাব আলী, ঢাকা বিভাগের রফিকুল ইসলাম, সিলেট বিভাগের মাসুদ করিম, চট্টগ্রাম বিভাগের জিয়াউর রহমান জিয়া সহ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এপি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090