আজ

  • বৃহস্পতিবার
  • ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ড. ফেরদৌস কোরেশীকে দাগনভূঞার নিজ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রথিতযশা সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ২য় নামাজে জানাজা মঙ্গলবার বিকালে দাগনভূঞা আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর দাগনভূঞার বাসুদেবপুর গ্রামের হানিফ মিয়াজীর বাড়ীর দরজায় ৩য় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।

    দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় জানাযা পূর্ব বক্তব্য রাখেন দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল কবির রতন, জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ বাহার, মরহুমের ছোট ভাই ড. জাফর আহমদ, ঢাকাস্থ ফেনী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি তানভীর আলাদীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন বিকম।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রিয় সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    জানাজায় ইমামতি করেন দাগনভূঞা বড় মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

    মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও বহু গুণগ্রাহী রেখে যান।

    উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুর ৩টার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির (পিডিপি) চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী মৃত্যুবরণ করেন।

    মরহুমের মেয়ে ডা. অনিন্দিতা শবনম কোরেশী জানান, ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কোরেশী। প্রায় অর্ধমাস ওই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আইয়ুববিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী দাগনভূঞা সদর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে ১৯৪১ সালের ১৪ জানুয়ারী জন্ম নেন। অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে তার অবদান অসামান্য। ৬০-এর দশকের এই মেধাবী ছাত্রনেতা তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্র সংগঠন ডাকসুর ভিপি এবং ১৯৬৭-১৯৬৮ তে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬ দফা ও ১১ দফা ভিক্তিক ছাত্র আন্দোলন ও ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে সমগ্র দেশের ছাত্র ও যুবসমাজকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেন। এজন্য তাকে জেলে যেতে হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বহিষ্কার করা হয়। এসব কারণে বছরের পর বছর তিনি কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, এমনকি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেও রাজবন্দি হিসেবে একসঙ্গে কারাবাসে সময় কাটিয়েছেন। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন তিনি। এসময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের মুখপাত্র ‘দেশবাংলা’ পত্রিকা মুজিবনগর থেকে প্রকাশ করেন। বলাবাহুল্য, এটিই মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র ছিল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি) থেকে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। আমৃত্যু তিনি ওই দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। মরহুমের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

    ফেনী ট্রিবিউন/এএএম/এটি


    error: Content is protected !! please contact me 01718066090